azharul islam
২৬ অগাস্ট ২০২৫, ১:৩৫ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ
পাঠক সংখ্যা ৬২৮ জন

গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের লাগামহীন দুর্নীতি: আইন শুধু কাগজে, প্রয়োগের মুখে কুলুপ

বিশেষ প্রতিবেদন : গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (গাউক) লাগামহীন দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতা এখন এতটাই প্রকট যে, তাদের কার্যক্রমে আইনের শাসন বলে কিছু আছে বলে মনে হয় না। কাগজ-কলমে কঠোর আইনি বিধান থাকলেও, এর প্রয়োগের ক্ষেত্রে গাউকের কর্মকর্তারা যেন চোখে ঠুলি পরে আছেন। তাদের কার্যক্রমে ভয়-ভীতির পরিবেশ তৈরি করে নিজেদের পকেট ভরছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

সূত্রমতে, গাউকের উচ্ছেদ অভিযান এখন এক তামাশায় পরিণত হয়েছে। আইনি প্রয়োগের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে অসংখ্য অবৈধ স্থাপনা দিনের পর দিন মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। কর্তৃপক্ষের ভয়-ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায়ের কৌশল এতটাই স্পষ্ট যে, সাধারণ মানুষ এখন বুঝতে পারছে, আইন এখানে শুধুই কাগজে সীমাবদ্ধ, প্রয়োগের ক্ষেত্রে দুর্নীতিই শেষ কথা।

বহু বছর আগে অপরিকল্পিতভাবে নির্মিত গার্মেন্টস শিল্প কারখানাতেও এখন অবাধে ছাড়পত্র ও প্ল্যান পাস দেওয়া হচ্ছে। প্রশ্ন উঠেছে, এই ধরনের শিল্প স্থাপনা এত বছর ধরে কীভাবে অবৈধভাবে পরিচালিত হচ্ছিল এবং হঠাৎ করে কিসের বিনিময়ে তাদের বৈধতা দেওয়া হচ্ছে? স্পষ্টতই, মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে চোখ বন্ধ করে এসব অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে বড় ধরনের পরিবেশগত ও নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণ হতে পারে।

গাউকের নজর যেন কেবল বড় বড় গার্মেন্টস শিল্প কারখানা ও কল-কারখানার দিকেই নিবদ্ধ। এদের কাছ থেকে মোটা টাকা হাতিয়ে নেওয়ার সুযোগ থাকায়, তারা আবাসিক প্রকল্পগুলোর দিকে বিন্দুমাত্র নজর দিচ্ছে না। ফলে গাজীপুরের আবাসিক এলাকাগুলো অপরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠছে, যেখানে না আছে সঠিক রাস্তাঘাট, না আছে পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা। সাধারণ মানুষের জীবনযাপন দুর্বিষহ করে তুলে গাউক কর্মকর্তারা নিজেদের আখের গোছাচ্ছেন।

অভিযোগ রয়েছে, গাউকের কতিপয় কর্মকর্তা আইনের দুর্বল প্রয়োগের সুযোগ নিয়ে নিয়মিত চাঁদাবাজি করছেন। তারা ইচ্ছাকৃতভাবে আইনি প্রক্রিয়াকে জটিল করে তোলেন এবং হয়রানির ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায় করেন। সাধারণ মানুষ ন্যায় বিচার পাওয়ার পরিবর্তে দুর্নীতির জালে আটকা পড়ে সর্বস্ব হারাচ্ছে।

গাজীপুরকে একটি পরিকল্পিত নগরী হিসেবে গড়ে তোলার পরিবর্তে গাউক এটিকে দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত করেছে। এই পরিস্থিতির দ্রুত অবসান না হলে গাজীপুরের ভবিষ্যৎ আরও অন্ধকারে নিমজ্জিত হবে। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং সরকারের উচ্চ পর্যায়ের জরুরি হস্তক্ষেপ ছাড়া এই নৈরাজ্য বন্ধ করা অসম্ভব। এই স্বেচ্ছাচারিতা বন্ধে কি কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে, নাকি গাউকের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা এভাবেই আইনের চোখে ধুলো দিয়ে যাবেন?          তথ্য সূত্র: সকালের সময়

Facebook Comments Box

No tags found for this post.

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি স্থগিত করল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

জনবান্ধব ভূমি ব্যবস্থাপনার বিকল্প নেই : প্রধানমন্ত্রী

জুলাই-আগস্টেই গণমাধ্যম নীতিমালা ও কমিশন গঠন হবে : তথ্যমন্ত্রী

রাজধানীতে মাথাবিহীন ৭ খণ্ড মরদেহ উদ্ধার, আটক ৩

ভিসিকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে ডুয়েটে ব্লকেড কর্মসূচি, মূল ফটকে তালা

রাতভর উত্তেজনা, চট্টগ্রাম নগরীতে মিছিল-মিটিং নিষিদ্ধ

বেস্ট ডমেস্টিক এয়ারলাইন্স পুরস্কার পেল ইউএস-বাংলা

ড. ইউনূসসহ সাবেক উপদেষ্টাদের দেশত্যাগে নিষে*ধাজ্ঞা চেয়ে রিট

আবু সাঈদ হত্যা মামলায় দণ্ডিত বেরোবির সাবেক ভিসি কারাগারে

বাংলাদেশ থেকে ৬ হাজার ড্রাইভার নেবে দুবাই

১০

জামায়াত আমির পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের ঘোষণায় সরকারকে সাধুবাদ জানালেন

১১

ও কিছু বলে না কেন, আমার কি কিছু হচ্ছে না: তারিক আনাম

১২

জনশক্তি ব্যুরো’র পরিচালকের অঢেল সম্পদ অর্জন!

১৩

আপনাদের শক্তি হচ্ছে আমাদের শক্তি : তারেক রহমান

১৪

নতুন হামলার মধ্যেও যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াতে সম্মত ইসরাইল ও লেবানন

১৫

দেশজুড়ে বৃষ্টির সম্ভাবনা; ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে ভারী বর্ষণের শঙ্কা

১৬

দোহার নির্বাচন অফিসের সেই রাত: অপারেটর জামাল ধরা পড়লেও আড়ালে ছিলেন কে?

১৭

হজ্জে বসির, অভিযোগের ফাইল ঘিরে রহস্য! উত্তরা সার্কেল-৩

১৮

দেশের তিন বিভাগে ভারী বৃষ্টির আভাস

১৯

লাল বাতি জ্বললেই ব্রেক, মিলতে শুরু করেছে সুফল

২০