শ্রীপুর গাজীপুর সংবাদদাতা: গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মুলাইদ ইউনিয়ন মোড় এলাকায় কোর্টে বিচারাধীন জমিতে জোরপূর্বক দোকান ঘর নির্মাণের চেষ্টা ও তাতে বাঁধা দেওয়ায় যুবককে সন্ত্রাসী সাজানোর মিথ্যা অভিযোগ উঠেছে। আরিফুল ইসলাম নামে ওই যুবক তার চাচীর বিরুদ্ধে এই অভিযোগ এনেছেন এবং ইলেকট্রনিক্স ও প্রিন্ট মিডিয়ায় মিথ্যা তথ্য প্রচারের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।
আরিফুল ইসলামের দাবি অনুযায়ী, ২০১৯ সালে তার চাচা মরহুম সুজন মিয়া হেবা ঘোষণার মাধ্যমে দলিলমূলে তাদের পারিবারিক সম্পত্তি তার বাবা মো: রফিক মিয়াকে প্রদান করেন এবং জমিতে থাকা একটি দোকান ঘর ভেঙ্গে ভোগদখল বুঝিয়ে দেন। চলতি বছরের ২৮ আগস্ট তার চাচা সুজন মিয়া মারা যান। এর প্রায় ৬ মাস পর থেকে মরহুম সুজন মিয়ার স্ত্রী নুরজাহান বেগম ওই জমি নিজেদের দাবি করে আরিফুল ইসলাম ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে থানায় হয়রানিমূলক অভিযোগ দায়ের করতে থাকেন।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল বারিক উভয় পক্ষকে থানায় বসার অনুরোধ করলেও নুরজাহান বেগমের পক্ষ থেকে একাধিকবার এই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করা হয়। বর্তমানে জমিটির মালিকানা সংক্রান্ত মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
গত ৪ নভেম্বর নুরজাহান বেগম তার দলবল নিয়ে কোর্টে বিচারাধীন ওই জমিতে জোরপূর্বক একটি দোকান ঘর নির্মাণের চেষ্টা চালান। আরিফুল ইসলাম তাদের এই অবৈধ নির্মাণ কাজে বাধা দেন। এরপরে দিবাগত রাতে গোপনে ঘরের খুঁটি স্থাপন করা হয়। পরের দিন ০৫ নভেম্বর ও ০৭ নভেম্বর পুনরায় নির্মাণ কাজ শুরু হলে আরিফুল ইসলাম আবারও বাঁধা দিতে যান। ০৭ তারিখ জুমার নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে নির্মাণ কাজ চলমান দেখে তিনি বাধা দেন।
আরিফুল ইসলাম জানান, তিনি তার বৈধ জমিতে অবৈধ নির্মাণ কাজে বাধা দেওয়ার ঘটনাটিকেই তার চাচী পক্ষ ভিডিও করে সংবাদ সম্মেলন করে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচার করছে এবং তাকে ‘জমি আত্মসাৎকারী সন্ত্রাসী’ হিসেবে মিথ্যাভাবে সাজানোর চেষ্টা চালাচ্ছে।
আরিফুল ইসলাম আরও বলেন, “আমার জমিতে অন্য কেউ জোড়পূর্বক ঘর নির্মাণ করতেছে। আমি বাধা দিলে আমি সন্ত্রাসী হই কিভাবে? এই জমির মামলা কোর্টে চলমান। আমি কোর্টকে সম্মান করি, আইনকে শ্রদ্ধা করি। কোর্ট যেই রায় দিবে আমি মাথা পেতে নিবো।”
তিনি তার বিরুদ্ধে মিথ্যা ভিত্তিহীন তথ্য সাজিয়ে বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স ও প্রিন্ট মিডিয়ায় প্রচার করার তীব্র নিন্দা প্রকাশ করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে এই দুই পক্ষের মধ্যে জমি নিয়ে বিরোধ চলছে। এমতাবস্থায়, এক পক্ষের জোরপূর্বক নির্মাণ এবং অন্য পক্ষের বাধা দানের ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। যেহেতু মামলাটি আদালতে চলমান, তাই এই ধরনের কোনো একতরফা পদক্ষেপ আইনসম্মত নয় বলে অনেকে মনে করছেন।
No tags found for this post.
মন্তব্য করুন