নিজস্ব প্রতিবেদক : দুবাই সিংগাপুরে বসেই মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে নতুন সিন্ডিকেট করতে চাচ্ছে শেখ হাসিনার ছোট বোন শেখ রেহানার ডান হাত হিসাবে পরিচিত রুহুল আমিন স্বপন। তার হয়ে সব ধরনের পরিকল্পনা সাজাচ্ছেন তার আপন ভাই তাজুল ইসলাম, ভাগিনা আযম ও তাদের সিন্ডিকেটের অন্যতম সদস্য আসলাম চৌধুরী। এই অভিযোগটি সেলিম ও ফখরুল ইসলামের সিন্ডিকেটের সদস্যদের।
এদিকে বায়রার মাধ্যমে বাংলাদেশের শ্রমবাজার নিয়ন্ত্রণে আনতে এম এ এইচ সেলিম ও মোহাম্মদ ফখরুল ইসলামসহ তাদের সিন্ডিকেটের সদস্যরা উঠেপড়ে লাগছে। তারা একদলকে ভাগিয়ে তাদের নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে বিভিন্ন জায়গায় দৌড়ঝাপ পাচ্ছেন। সভাপতি পদপ্রার্থী এ এইচ সেলিম ও মহাসচিব পদপ্রার্থী মোহাম্মদ ফখরুল ইসলামসহ তাদের সিন্ডিকেটের সদস্যরা বিভিন্ন পদে নির্বাচন করে বায়রার মাধ্যমে শ্রমবাজারকে তাদের নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। বায়রার সাধারণ সদস্যদের বিভিন্ন ধরনের প্রলোবন দেখিয়ে সেলিম ও ফখরুল ইসলাম তাদের সিন্ডিকেটের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য চেষ্টা করছেন। এইসব তথ্য জানিয়েছেন স্বপনের ভাগিনা আযম।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, এর আগে সেলিম ও ফখরুল ইসলামসহ সিন্ডিকেটের সদস্যরা শ্রমবাজারকে পুঁজি করে অবৈধভাবে অঢেল সম্পদের মালিক হয়েগেছেন। তাদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় উপদেষ্টা সহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যানসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা কোন প্রকার ওই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। তাদের বিরুদ্ধে কি কারনে ব্যবস্থা নিচ্ছেন না কেনো এর রহস্য কি? তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করলে অঢেল সম্পদসহ বিভিন্ন ধরনের দুর্নীতির চিত্র বেরিয়ে আসবে বলে তার ধারণা। বর্তমানে সেলিম ও ফখরুল ইসলাম বায়রার নির্বাচন দিয়ে নতুন করে আবার দুর্নীতির ও অপকর্ম করার জন্য উঠেপড়ে লাগছেন। তাদের দুর্নীতি ও অপকর্মের কর্মকাণ্ড দেখার মতো কেউ নেই!
এদিকে শুধু যে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার কুক্ষিগত করতে স্বপন ও তার পলাতক দোসররা কখনো দুবাই, কখনো সিংগাপুর আবার কখনো মালয়েশিয়ায় বৈঠক করছেন তা নয়, তাদের ছক মোতাবেক যাতে আসন্ন বায়রা নির্বাচনে তাদের প্যানেল বিজয়ী হতে পারে সেই পরিকল্পনা ও নির্দেশনা ঢাকায় থাকা তাদের গ্রুপের কাছে দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আর এই সিন্ডিকেটের অপতৎপরতা একটি মিডিয়া সিন্ডিকেটের মাধ্যমে প্রচার করার কৌশল নিয়েছে স্বপন মনোনীত লোকজন। তাদের শেখানো সিন্ডিকেটের পক্ষের কথাগুলোই হাতেগোনা কয়েকটি পত্রিকা, অনলাইন ও টেলিভিশনে প্রচারিত করার ব্যর্থ চেষ্টা চলছে বলেও প্রতিপক্ষ বায়রা সদস্যদের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হচ্ছে।
যদিও মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে যাতে পুরনো সিন্ডিকেট ( স্বপন-নুর আলী-ফখরুল) আর নিয়ন্ত্রন করতে না পারে সে ব্যাপারে পরিস্কার বার্তা প্রবাসী কল্যান ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রনালয় বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল আগেই দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খুললে সবার জন্যই খুলবে। কোন সিন্ডিকেটকে প্রশয় দেয়া হবে না।
এরপরও স্বপন এবং নুর আলী মিলেমিশে আবারো নতুন লাইসেন্সের মালিকদের নাম ব্যবহার করে সিন্ডিকেট করার পায়তারা চালাচ্ছেন বলে বায়রা সদস্যা জানতে পারছেন। তবে স্বপন গ্রুপের একজন সদস্য অভিযোগ করেন, এবার সিলভার সেলিম এবং ফখরুল ইসলাম গং সিন্ডিকেট বিরোধী বক্তব্য দিয়ে আসন্ন বায়রা নির্বাচনে নিজেরাই বায়রা দখল করে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে সিন্ডিকেট করার পায়তারা চালাচ্ছেন। যা মোটেও হতে দেয়া হবে না।
উল্লেখ্য মালয়েশিয়ায় শ্রমবাজারে সিন্ডিকেট করার হোতা রুহুল আমিন স্বপন, শেখ সেলিমের ডান হাত হিসাবে পরিচিত গোপালগঞ্জের শেখ মোহাম্মাদ সাইদুর রহমান, আদিব এয়ারের মালিকসহ সিন্ডিকেটের অন্যান্য সদস্যদের বিরুদ্ধে সিআইডির অনুসন্ধান চলমান রয়েছে। স্বপনের ৫০০ কোটি টাকার সম্পত্তিও সিআইডি ক্রোক করেছে। তাদের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধানও পাশাপাশি চলছে।
উল্লেখ্য, মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রপ্তানী সিন্ডিকেট প্রধান স্বপনের ৫০০ কোটি টাকার সম্পত্তি ক্রোক, মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রপ্তানীর সিন্ডিকেটের প্রধান রুহুল আমিন (স্বপন) ও তার স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৫০০ কোটি টাকার সম্পত্তি ক্রোক করেছে সিআইডি। গত বুধবার (২০ আগস্ট) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান।
জসীম উদ্দিন বলেন, মালয়েশিয়ায় জনশক্তি প্রেরনের উদ্দেশ্যে সিন্ডিকেট করে ৮ হাজার কোটি টাকা আদায় পূর্বক আত্মসাৎ করে বাড়ী ও জমি কিনে অঢেল সম্পদের মালিক হয়েছে এই সিন্ডিকেটের প্রধান রুহুল আমিন (স্বপন)। তিনি সম্পত্তির উক্তরূপ মালিকানা লাভ করে মানিলন্ডারিং এর অপরাধ করেছে।
তিনি বলেন, রুহুল আমিন (স্বপন) এর জনশক্তি রপ্তানীর প্রতিষ্ঠান ক্যাথারসিস ইন্টারন্যাশনাল নামীয় ঢাকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, বনানী ও উত্তরা এলাকার ৭টি দলিলের সর্বমোট জমির পরিমাণ- ২৩১ কাঠা, যার দলিল মূল্য ১৫ কোটি ৫৫ লাখ ৩৩ হাজার টাকা। এসব জমির উপর ক্যাথারসিস ইন্টারন্যাশনাল নামীয় প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন অবকাঠামোসহ সর্বমোট ৫০০ কোটি টাকার স্থাবর সম্পত্তি ক্রোক করা হয়েছে।
ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম, সিআইডি, ঢাকার অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে বিজ্ঞ সিনিয়র স্পেশাল জজ, ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত, ঢাকা উক্ত সম্পত্তির উপর ক্রোকাদেশ দেন বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রপ্তানীর সিন্ডিকেটের মূল হোতা রুহুল আমিন (স্বপন) সহ সিন্ডিকেটের অপরাপর সদস্যদের বিরুদ্ধে সিআইডির অনুসন্ধান চলমান রয়েছে। মানিলন্ডারিং আইনে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সিন্ডিকেট মুক্ত’ বায়রা গঠনে অঙ্গীকার সম্মিলিত সমন্বয় ফ্রন্টের সিন্ডিকেট মুক্ত বায়রা গড়ি, সম্মানের সাথে নিজ লাইসেন্সে ব্যবসা করি” এই স্লোগান সামনে রেখে বক্তারা এবার বায়রাকে সিন্ডিকেট মুক্ত রাখার বিষয়ের উপর বেশী জোর দিয়ে বক্তব্য রাখেন।
সোমবার রাতে “বায়রা সম্মিলিত সমন্বয় ফ্রন্ট” এর ব্যানারে রাজধানীর একটি হোটেলে প্যানেল পরিচিতি অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিজের (বায়রা) আসন্ন দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন ২৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এ নির্বাচনে জয়ী হতে বায়রার ‘চির প্রতিদ্বন্দ্বী’ দুটি প্যানেল তাদের সদস্যদের কাছে ভোট ও দোয়া প্রার্থনা করে দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন। একই সাথে দুটি প্যানেলের সদস্যরাই নির্বাচিত হলে সদস্যদের জন্য নতুন শ্রমবাজার খোলার পাশাপাশি আর কি কি ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন তা-ও উল্লেখ করে বক্তব্য দিচ্ছেন।গত সোমবার রাতে “বায়রা সম্মিলিত সমন্বয় ফ্রন্ট” এর ব্যানারে রাজধানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত হয়েছে প্যানেল পরিচিতি ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বায়রা সম্মিলিত সমন্বয় ফ্রন্টের প্যানেল প্রধান সভাপতি পদপ্রার্থী এম. এ. এইচ সেলিম ও মহাসচিব পদপ্রার্থী মোহাম্মদ ফখরুল ইসলামসহ প্যানেলের অন্য সদস্য ও আগত সমর্থকরা বক্তব্য দেন।
সিন্ডিকেট মুক্ত বায়রা গড়ি, সম্মানের সাথে নিজ লাইসেন্সে ব্যবসা করি” এই স্লোগান সামনে রেখে বক্তারা এবার বায়রাকে সিন্ডিকেট মুক্ত রাখার বিষয়ের উপর বেশী জোর দিয়ে বক্তব্য রাখেন।প্যানেল প্রধান সভাপতি এম এ এইচ সেলিম নির্বাচনে অংশগ্রহনকারী প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দিয়ে অঙ্গীকার করান, আমাদের প্যানেল নির্বাচিত হলে কোনো সদস্যই মালয়েশিয়াসহ কোনো শ্রমবাজারেই সিন্ডিকেটে সম্পৃত্ত হতে পারবেন না। জড়িত থাকার কথা কেউ উচ্চারণ করলেই তাকে তার পদ থেকে রিজাইন দিয়ে চলে যেতে হবে। তার কথায় সবাই দু’হাত তুলে অঙ্গীকার করেন, আমরা কেউ সিন্ডিকেটে থাকবো তো দুরের কথা, কোনোদিন মুখেও আনবো না। আমরা সদস্যদের কল্যাণে কাজ করবো।
মতবিনিময় সভায় মহাসচিব পদপ্রার্থী মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম প্যানেল সদস্যদের পরিচিতি করানোর সময় বলেন, আমাকে সিন্ডিকেটের সদস্যরা তাদের দলে নিতে অনেক ধরনের টোপ দিয়েছেন। তাদের কথায় না শোনায় তারা সিন্ডিকেটের সদস্যরা পরিকল্পিভাবে আমার ওপর ঢাকা রিপোটাার্স ইউনিটিতে হামলা চালিয়েছে।তিনি বলেন, আমাদের প্যানেল নির্বাচিত হলে আমরা বায়রার সকল সদস্যর জন্য ব্যবসা উম্মুক্ত করবো ইন-শা-আল্লাহ।
এরআগে প্যানেল ও সাধারণ সদস্যদের পক্ষ থেকে রিয়াজ উল ইসলাম, কাজী সাখাওয়াত হোসেন লিন্টু, আকবর হোসেন মঞ্জু, আমির হোসেন ভুইয়া, মুহাম্মদ আব্দুল কাদের, মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, মাসুমা আক্তার, মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, সাইদুল ইসলাম, মোহাম্মদ আজাদুর রহমান, মোহাম্মদ আলী, ড. এম আসাদুজ্জামানসহ ২৭ সদস্যর জীবন বৃত্তান্তসহ পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়।অনুষ্ঠানে বায়রার সাড়ে ৮’শ মেম্বার উপস্থিত থেকে সিন্ডিকেট বিরোধী পূর্ণ প্যানেলকে নির্বাচিত করতে অঙ্গীকার করেন। দুর্নীতির পর্ব-১।
No tags found for this post.
মন্তব্য করুন