দীর্ঘ ১৭টি বছর প্রবাস জীবনে অনেক কষ্টে দুঃখে কেটেছে তারেক রহমানের জীবন। এরই মধ্যে এই ১৭ টি বছর রাজনীতি সামাজিক ও পারিবারিক অনেক উত্থান পতন হয়েছে তার।
স্বাধীনতার ঘোষক (১৯৮১সনে) শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের এবং ৩ বারের প্রধানমন্ত্রী গণতন্ত্রের মা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠ পুত্র তারেক রহমান। রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার পরে তার প্রতিটি ধাপ ছিল সাংগঠনিক এবং দেশের মানুষের জন্য। গ্রামগঞ্জে ছুটি যেতেন সাধারণ মানুষের কাছে। যা ছিল শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শের একটি অংশ।
১৯৬৫ সালে ২০ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেন তারেক রহমান। লেখাপড়া ছিল অত্যন্ত মেধাবী। আদমজী ক্যান্টনমেন্ট উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এইচ এস সি, এরপর আইন বিভাগে লেখাপড়া করেন তিনি। বর্তমানে তিনি পিএইচ ডি ডিগ্রীধারী একজন প্রথম শ্রেণীর নাগরিক।

বৈবাহিক জীবনে তিনি ১৯৮৪ সালে সাবেক বিমান বাহিনী প্রধান রিয়ার এডমিরাল মাহবুব আলী খানের মেয়ে ডা, জোবায়েদা রহমান কে বিয়ে করেন। বর্তমানে তাদের একটি সন্তান রয়েছেন যার নাম ব্যারিস্টার জাইমা রহমান লন্ডন থেকে সুনামের সঙ্গে ব্যারিস্টারি ডিগ্রি লাভ করেন।
২০০১ সালে জাতির ক্রান্তিলগ্নে তারেক রহমানের হাত ধরেই বিএনপি ক্ষমতায় আসে।
২০০২ সালে তিনি বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব নির্বাচিত হন।
২০০৭ সনে সেনার সমর্থিত সরকার তাকে গ্রেফতার করেন এরপর তার মা বেগম খালেদা জিয়া ও ছোট ভাই কোকোকে ও গ্রেফতার করেন। তারেক রহমানের উপর চালানো হয় জেলের ভিতর অমানুষিক নির্যাতন, নিপীড়ন এক পর্যায়ে তাকে তিন তলা থেকে ফ্লোরে ফেলে দেওয়া হয় এতে তার মেরুদন্ডের বেশ কয়েকটি হাড্ডি ভেঙ্গে যায়। আল্লাহই হয়তো এই জাতির জন্য সেদিন তারেক রহমান কি বাঁচিয়ে রেখেছিলেন।
২০১৬ সালে তারেক রহমান বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।
২০১৮ সালে বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় আওয়ামী স্বৈরাচারী সরকার গ্রেফতার করেন। এবং তড়িঘড়ি করে মিথ্যা মামলায় তাকে সাজা দেন। একই বছর তারেক রহমানকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নির্বাচিত করেন। কিন্তু তারেক রহমানের জীবন থেকে হারিয়ে যায় অনেক স্মৃতি। ছোট ভাই কোকোকে হারাতে হয় অল্প বয়সে। শহীদ জিয়ার ও বেগম খালেদা জিয়ার স্মৃতি ঘেরা ক্যান্টনমেন্টের বাড়ি থেকে স্বৈরাচারী সরকার ট্রেনে হইছে খালেদা জিয়াকে বের করে দেওয়া হয়। সেখানে তারেক রহমান ছোট ভাই কোকো, এবং জিয়াউর রহমান খালেদা জিয়ার বহু স্মৃতি নষ্ট করে দেওয়া হয়। হয়তো সেসব স্মৃতি আর কোনদিন ফিরে পাবেন না তারেক রহমান।
ছোট ভাই অকাল মৃত্যু, মা খালেদা জিয়া বিনা দোষে সাজাপ্রাপ্ত আসামী, নেই বাড়ি ঘরের চিহ্ন, প্রবাসে থেকে একটি মানুষের মনের অবস্থা কি হতে পারে প্রশ্ন রইল জাতির কাছে।
তবুও হাল ছাড়েনি তারেক রহমান। বাংলাদেশের মানুষের কথা চিন্তা করে, পরাশক্তির হাত থেকে দেশকে বাঁচাতে আবারো পা রাখলেন দেশের মাটিতে। বিশ্বরোডের ৩০০ ফিটে বর্ণিল সাজে সারা জাতি তাকে উষ্ণব্যবর্থনা জানালেন বাংলাদেশে। জাতির দুর্দিনে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, মা খালেদা জিয়ার মত তিনিও ছুটে এসেছেন বাংলাদেশের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য। তাইতো সারা বাংলাদেশে আজ যেন সেই মাহেন্দ্রক্ষণ ২৫ ডিসেম্বর তারেক রহমানের ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস। এই দিবসটি কে স্মরণ করে রাখতে বাংলাদেশের গ্রাম গঞ্জ শহর প্রতিটি জায়গা থেকে ১ কোটি ৫০ লক্ষ মানুষের সমাগম হয় ৩০০ ফিটে। সমস্ত ঢাকা শহরে যেন মানুষ আর মানুষ।
যেন তারেক রহমানের ৩১ দফা বাস্তবায়নের আগাম বার্তা দিচ্ছে বাংলাদেশের মানুষ। তারেক রহমানের বহুদিনের লালিত স্বপ্ন যেন হাতছানি দিচ্ছে দেশকে বাঁচাও দেশের মানুষকে বাঁচাও। তাইতো তার চোখে মুখে ফুটে উঠেছে বাংলাদেশকে বাঁচানোর ইচ্ছা। তিনি বলেছিলেন- টেইক ব্যাক বাংলাদেশ।
কিন্তু দেশের এই করুণ পরিস্থিতির মধ্যে নিজেকে মানিয়ে নেওয়া কতটা সহজ হবে না তারেক রহমানের। কারণ স্বাধীনতা বিরোধীরা দেশ ধ্বংসের পায়ে তারা করছে যখন তখন ফেলে দিচ্ছে লাশ। সন্ত্রাস চাঁদাবাজি করে সরিয়ে দিচ্ছে মিডিয়ায় বিএনপি ট্যাগ লাগিয়ে। সতর্ক থাকতে হবে বিএনপি’র প্রতিটি স্তরের নেতাকর্মীদের। তারেক রহমানের থাকতে হবে সর্বক্ষণ সতর্ক। অন্যদিকে পরাজিত স্বৈরাচার পিছন থেকে অন্য রাষ্ট্রে বসে নারছেন কলকাঠি। এই অন্তিম সময় তারেক রহমান দেশে এসেছেন তার নিজের স্বার্থে নয় বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থে তাই সকলকে তারেক রহমানকে ঘিরে রাখতে হবে। তাকে সার্বিক সহযোগিতা করতে হবে দেশ পরিচালনায়। নির্বাচনে তাকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করে নিয়ে আসতে হবে। গণতন্ত্র কখনো ভুলুন্ঠিত না হতে পারে। জিয়াউর রহমানের বহু দলীয় গণতন্ত্রের মুক্তি হোক। দেশ হোক রাজাকার মুক্ত। তাইতো সারা বাংলাদেশের মানুষ তারেক রহমানকে এক নজর দেখতে তার মুখের কথা শুনতে এখন ঢাকায় অবস্থান করছেন। ধন্যবাদ জানাই সারা বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামি মানুষকে।
No tags found for this post.
মন্তব্য করুন